-kanyashree-prakalpa

Kanyashree Prakalpa কি ? কেমন করে আবেদন করবেন সমস্ত তথ্য জানুন

 

পশ্চিমবঙ্গে নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি কন্যাশ্রী প্রকল্প ।  2013 সালে 4th মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এই প্রকল্পটি চালু করে শিশু ও নারী উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর । 2017 সালের জুন মাসের রাষ্ট্রসংঘ থেকে “সর্বোচ্চ পাবলিক সার্ভিস ”  পুরস্কার হিসাবে কন্যাশ্রী প্রকল্পটিকে সম্মানিত করা হয়, যা প্রতিটি বাঙালির গর্বের বিষয় । এই ঘোষণার কিছুকাল পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পটিকে আরও উন্নত করে তোলার উদ্দেশ্যে 14 ই আগস্ট দিনটিকে কন্যাশ্রী  দিবস হিসেবে উদযাপন করা শুরু করেন ।

 

কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করার উদ্দেশ্য কী ? 

এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে মেয়েদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে । সাধারণত গ্রাম বাংলায় দেখা যায় মেয়েদের খুব কম বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়, যার অন্যতম মূল কারণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং সামাজিক সমস্যা এবং এর ফলে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ মেয়েরা  অপুষ্টি, মা ও শিশু মৃত্যু, নির্ধারিত শারীরিক পরিপূর্ণতার আগে গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক অসুবিধায় আক্রান্ত হচ্ছে, তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানত গ্রাম বাংলার যুবতী মেয়েদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিলেন । এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমবঙ্গের সকল কন্যা সন্তানদের অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য প্রদান করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং তাদের সঠিক শিক্ষার বন্দোবস্ত করে সুন্দর ভবিষ্যত প্রদান করা । 

 

কারা কারা এই প্রকল্পের লাভ নিতে পারবে ?

সরকার স্বীকৃত উচ্চ মাধ্যমিক  বিদ্যালয় ও এই ধরণের সকল  বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠরত সমস্ত অবিবাহিত মেয়েরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবে । এক্ষেত্রে সমস্ত মেয়েদের বয়স ভিত্তিক দুটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়েছে যথা – K 1K 2 । নিচের চার্ট টি দেখে আপনি সম্পূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন K 1K 2 এর এপ্লিকেশন সাবমিট এর জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ।

(K- 1)

(K- 2)

ছাত্রীর বয়স 13 বছরের বেশি ও 18 বছরের কম হতে হবে । ছাত্রীর বয়স অবশ্যই 18 বছরের বেশি ও 19 বছরের কম হতে হবে ।
ছাত্রীকে অন্তত (viii) শ্রেণীতে পাঠরতা হতে হবে । ছাত্রীকে মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, কারিগরি, বৃত্তিমূলক, ক্রীড়াবিষয়ক ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে স্বীকৃতমূলক প্রতিষ্ঠানে পাঠরত অবস্থায় থাকতে হবে ।
ছাত্রীর পারিবারিক আয় বাৎসরিক অনধিক 1,20,000 টাকা হতে হবে । (একই)
ছাত্রীকে অবশ্যই অবিবাহিতা হতে হবে । (একই)

 


কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে কত টাকা অনুদান দেওয়া হয় ? 

  •   K- 1 অর্থাৎ অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মধ্যে পাঠরত মেয়েরা বার্ষিক 750 টাকা করে পাবেন । 
  • K- 2 অর্থাৎ 18 বছরের উর্দ্ধে মেয়েরা এককালীন 25000 টাকা অনুদান পাবেন ।

 কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদ করার সময় কী কী লাগবে ?

  • ছাত্রীর জন্ম সার্টিফিকেট;
  •  আধার কার্ড;
  •  স্কুল সার্টিফিকেট;
  • পারিবারিক ইনকাম সার্টিফিকেট; 
  • অভিভাবক কর্তৃক অবিবাহিতা সার্টিফিকেট;
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি;
  • যে কোন রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের একটি সেভিংস একাউন্ট ।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য কিভাবে আবেদন করবেন ?

কন্যাশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কন্যাশ্রী ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে । তারপর সেই ফর্ম এর সর্তকতা অবলম্বন করে ফিলাপ করতে হবে এবং উপরে দেওয়া প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি সংগ্রহ করে পুনরায় সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা স্কুলে জমা দিতে হবে । আপনার কন্যাশ্রী এপ্লিকেশন ট্র্যাক করার জন্য আপনি নিন্মে দেওয়া লিংক  ভিসিট করতে পারেন এবং একই ভাবে আপনি এই ওয়েবসাইট এ আপনার কোনো সমস্যা থাকলে জানাতে পারবেন । এই প্রকল্প সম্বন্ধিত সব তথ্য জানার জন্য লিংক টি ভিসিট করুন।

Click Here to Open

 

কন্যাশ্রী প্রকল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমুহঃ

  1. বর্তমানে (2021) কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে 2,14,50,980 জন মেয়েকে সাহাজ্য করা হয়েছে ।

      2. এই পর্যন্ত কন্যাশ্রী প্রকল্পটি দেশে বিদেশে প্রচুর সন্মান এবং পুরুস্কার অর্জন করে ফেলেছে । যেমন-

  • 2014 সালে  Manthan Award (South Asia and Asia Pacific), Empowerment of Girls Award এবং CSI-Nihilent Award.
  • 2015 সালে  Skoch Award and Order of Merit এবং National E-governance Award 2014 – 2015.
  •  2016 সালে GEM-Tech Awards এবং United Nations WSIS Prize 2016 Champion.
  • 2017 সালে UNPSA Award.

  

   যাইহোক, স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা নারী উন্নয়নের বর্তমান সময়ের এক উল্লেখযোগ্য মিশাল এই কন্যাশ্রী প্রকল্প । কন্যাশ্রী প্রকল্পের সবথেকে আকর্ষণীয় বিষয় হল, এখানে ছাত্রীরা তাদের প্রাপ্য আনুদানের টাকা সরাসরি নিজের ব্যাংক একাউন্ট এ পেয়ে যাচ্ছেন । এই প্রকল্পের কিছু অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও এটি পশ্চিমবঙ্গের সাধারন মানুষদের কাছে এক অনন্য উপহার ।

SC, ST এবং OBC স্কলারশিপ কী ? কিভাবে এই স্কলারশিপ পাবেন ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *